Dhaka City

Dhaka City

MIRPUR PARISH

মিরপুর ধর্মপল্লী মিরপুর ধর্মপল্লী আগে মোহাম্মদপুর সেন্ট খ্রিষ্টিনা ধর্মপল্লীর অধীন ছিলো। সেখানকার পিমে ফাদরগণ মিরপুর এসে খ্রিষ্টভক্তদের পালকীয় যত্ন নিতেন। প্রকৃতপক্ষে সেন্ট খ্রিষ্টিনা থেকেই জন্ম নেয় মিরপুর ধর্মপল্লী। ফাদার জন পাওলো গুয়ালজেত্তি, পিমে, এই ধর্মপল্লীর প্রথম পালপুরোহিত। ‘প্রেরিতগণের রাণী মারীয়া’ নামে মিরপুরের বড়বাগে গির্জাটি ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত হয়। ধর্মপল্লী হিসেবে যাত্রা শুরু করার আগে এখানে একজন পিমে ফাদার স্থায়ীভাবে থেকে ভক্তজনগণের আধ্যাত্মিক ও পালকীয় যত্ন নিতেন। চাকুরির প্রয়োজনে এবং তুলনামূলকভাবে কম ভাড়ায় থাকার সুবিধার কারণে অনেকেই মিরপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাথলিকগণ মিরপুর ধর্মপল্লীতে বসবাস করতে থাকেন যাদের অধিকাংশ বৃহত্তর খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর থেকে। এখাকার কাথলিকগণ সত্যিকার অর্থে সক্রিয় খ্রিষ্টিয় সমাজ। বর্তমানে মিরপুরে কাথলিকদের সংখ্যা প্রায় ২৫০০ জন। এই নতুন ধর্মপল্লীটি গড়ে  তোলার পিছনে পিমে ফাদারদের অনেক অবদান রয়েছে। বর্তমানে ধর্মপ্রদেশীয় ফাদারগণ ধর্মপল্লীর পরিচালনার দায়িত্ব আছেন।  ধর্মপল্লীর পাশেই সেন্ট জন মেরী ভিয়ান্নীর সেমিনারী রয়েছে।

Dhaka City

VATARA QUASI PARISH

        Name                   :     Divine Mercy Church (2019)         Address               :     Manadi Avenue,                                            Vatara, Gulshan, Dhaka         Parish Priest          :     Fr. Shitol T. Costa         Mobile                 :     (+88) 01778180865         Email                   :     stcosta72.sc@gmail.com         Asst. Parish Priest :     Fr. Regan P. Costa         Mobile                 :     (+88) 01778476787         E-mail                   :     reganpiuscosta201@gmail.com         Catholics              :     6,500 (including Nayanagor,                                                     Banani, Chalabon, Khilkhet & Dolipara) অনেক দিন থেকেই নয়ানগর এলাকায় একটি ধর্মপল্লী স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছিল। কারণ এই এলাকায় প্রচুর খ্রিষ্টানগণ বসবাস করেন। সাক্রামেন্তীয় কাজে, বিশেষ করে বিবাহ, দীক্ষাস্থান, মরা মাটি ও অন্যান্য সংস্কারগুলির জন্য তাদের তেজগাঁও ধর্মপল্লীতে যেতে হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদেরকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাছাড়া রেকর্ডগুলো যেহেতু তেজগাঁও ধর্মপল্লীতে তাই যে কোন সার্টিফিকেট ও চিঠি আনার জন্য তাদেরকে তেজগাঁও যেতে হয়। ভাটারা যেহেতু নয়ানগর গির্জার কাছেই এবং যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো এবং এখানে খ্রিষ্টান হাউজিং সোসাইটি অনেক জায়গা ক্রয় করে খ্রিষ্টানদের কাছে প্লট আকারে তা বিক্রি করেছে, এখানে নিকট ভবিষ্যতে এক বিরাট খ্রিষ্টান সমাজ গড়ে উঠবে, এসব কারণেই মহামান্য কার্ডিনাল ভাটারাকে ধর্মপল্লী হিসেবে ঘোষণা করেন। গির্জার নামে মহামান্য কার্ডিনাল ৫ কাঠা জায়গা হাউজিং সোসাইটির কাছ থেকে ক্রয় করেন এবং এখানেই তিনি চারতলা বিল্ডিং করেন। যার দ্বিতীয় তালা গির্জা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নয়ানগর উপ-কেন্দ্র ভাটারা ধর্মপল্লীর অন্তর্ভুক্ত। নয়ানগরসহ এখানে খ্রিষ্টভক্তের সংখ্যা ৬৫০০ জন। ঐশকরুণার যীশুর নামে ধর্মপল্লীটি উৎসর্গ করা হয়েছে। খিলক্ষেত উপ–কেন্দ্র খিলক্ষেত ভাটারা ধর্মপল্লীর একটি উপ-কেন্দ্র। ঢাকা বিমান বন্দরের কাছাকাছি খিলক্ষেতে খ্রিষ্টান বসতি গড়ে উঠেছে। এখানে প্রায় ৪০টি কাথলিক পরিবার রয়েছে। এক সময় তেজগাঁও গির্জা থেকে ফাদারগণ এসে এখানকার খ্রিষ্টভক্তদের পালকীয় যতœ নিয়ে থাকেন। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলক্ষেতে একটি গির্জা করার উদ্দেশ্যে মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও এখানে খ্রিষ্টান পাড়ার মাঝামাঝি জায়গায় এক খণ্ড জমি ক্রয় করেন। জায়গাটি পুকুর থাকায় মাটি ভরাট করে ২০১৬ সালে টিন শেডের একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। চ্যাপেলটির উদ্বোধন ও আশীর্বাদ করেন মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও । বর্তমানে প্রতি রোববারই এখানে খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করা হয় এবং বসুন্ধরা থেকে ফ্রান্সিসকান ধর্মসংঘের ফাদারগণ এসে ভাটারার ফাদারদের সহযোগিতা করে থাকেন। খিলক্ষেত উপ-কেন্দ্রের প্রতিপালিকা হলেন কলকাতার সাধ্বী তেরেজা। এখানে প্রায় ৩০০ জন খ্রিষ্টভক্ত বসবাস করেন। নয়ানগর উপ–কেন্দ্র নয়নগর গির্জাকে বলা হয় দ্যা ম্যাজেনড্ গির্জা। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২১ মে ঢাকার বারিধারার সন্নিকটে নয়ানগরে ‘অবলেট খ্রিষ্টানুভব নিকেতন’ বা অবলেট স্কলাস্টিকেট নতুনভাবে স্থাপনের পর এখানকার দ্য মাজেনড্ গির্জাটি পার্শ্ববতী বারিধারা ও কালাচাঁনপুরে কর্মরত কাথলিকদের নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে শুরুতে যে গির্জাঘর ছিলো রবিবারের উপাসনার জন্য তাতে ভক্তজনগণের তিল ধারণের জায়গা হতো না। অবলেট ফাদারগণ বর্তমানে নয়ানগরে আধুনিক স্থাপত্যে একটি বড় সুন্দর গির্জা ঘর তৈরি করেছেন। নয়ানগরের স্থায়ী বাসিন্দাদের এটি ছিলো অনেক দিনের প্রাণের দাবী। নয়ানগর যদিও একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মপল্লী নয়, তারপরও এর পালকীয় সেবাকাজ কোন অংশেই ধর্মপল্লীর চেয়ে কম নয়। বাড্ডা, নদ্দা, কালাচাঁনপুর, বারিধারা, কুড়িল, খিলক্ষেত, উত্তরা, আজমপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ও ভাড়ায় থাকা কাথলিকগণ এ গির্জায় যোগদান করে থাকেন। এ অঞ্চলে প্রচুর আদিবাসী ভাই-বোনেরা বসবাস করেন। দিনে দিনে এই এলাকায় কাথলিক সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

Dhaka City

NARAYANGANJ PARISH

        Name                   :     St. Paul’s Church (1952)         Address               :     Catholic Church, Narayanganj                                             135 Bangabandhu Sarak                                             Dist. Narayanganj-1400         Tel.                        :     (00 88 02) 7111281         Parish Priest        :     Fr. Elias M. Hembrom, CSC         Mobile                   :     (+88) 017 1454 5112/                                              (+88) 01824972713         E-mail                    :     cscfrelias458@yahoo.com         Catholics              :     3,000                                             (including Pagla, Kanchpur and other Centers) নারয়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী-বন্দর। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর অফিস ও কলকারখানায় ইউরোপীয়, এ্যাংলো ইন্ডিয়ান ও বাঙালি কাথলিকরা কর্মরত হয়। তখন কাথলিকদের সংখ্যা ছিল ৪০০ জন। বহু বছর ধরে লক্ষ্মীবাজার থেকে ফাদার নারায়ণগঞ্জের কাথলিকদের পালকীয় সেবা-যত্ন দিতেন ও ধর্মীয় পরিচর্যা করতেন। আর্চবিশপ  গ্রেইনার নারায়ণগঞ্জ এ একটি ধর্মপল্লী স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। এই উদ্দেশ্যে ফাদার আন্তনী ওয়েবার, সিএসসি, নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি দালানসহ জমি ক্রয় করেন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে ফাদার পল শে, সিএসসি, প্রথম পালক হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বসবাস শুরু করেন। পুরানো দালানটি ভেঙ্গে সেখানে একটি নতুন গির্জা ঘর নির্মিত হয়। ১৯৫২-১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এখানে ফাদারগণ স্থায়ীভাবে থেকে লোকদের পালকীয় যত্ন ও আধ্যাত্মিক পরিচর্যা করতেন। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে ফাদার শে’র মৃত্যুর পর মন্সিনিয়র ইসিদোর দা কস্তা নারায়ণগঞ্জের পালপুরোহিত হন। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই থেকে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রমনাস্থ সেন্ট মেরীজ ক্যাথিড্রাল থেকে ফাদার পল গমেজ ভারপ্রাপ্ত পালপুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার করে নারায়ণগঞ্জ গিয়ে পালকীয় পরিচর্যা করতেন। পরবর্তীতে লক্ষ্মীবাজার ধর্মপল্লীর ফাদারগণ নারায়ণগঞ্জের পালকীয় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে একজন স্থায়ীভাবে আবাসিক পুরোহিত দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কাথলিকদের সংখ্যা আনুমানিক ৩০০০ জন, যার মধ্যে অধিকাংশই অভিবাসী। MODHONPUR AT KACHPUR PAGLA CHURCH CENTER RUPGONJ CHURCH CENTER

Dhaka City

MOUSHAIR PARISH (CHALABON): (2022)

        Name                   :     Don Bosco Catholic Mission,                                            Maushair (2022)         Address               :      Shah Kabir Majar Rod                                            319 Moushair                                            P.S. Dakhinkhan, P.O. Uttara                                            Dhaka – 1230         Parish Priest         :     Fr. Francis Allencherry, SDB         Mobile                 :     (+88) 018 2082 9500         E-mail                  :     falencherry@gmail.com         Catholics              :     1100                     শিক্ষা, চাকুরী, জীবিকা অর্জন, নিরাপত্তা, উন্নত ও মানসম্মত জীবন যাপনের প্রত্যাশায় ঢাকা শহরে কাথলিকদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত খ্রিষ্টভক্তগণ ঢাকা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। এমনিভাবে সম্প্রতি  উত্তরা-দক্ষিণ খান এলাকায় খ্রিষ্টান বসতি গড়ে উঠেছে। শুরুতে খুব কম সংখ্যক খ্রিষ্টান লোকই এই এলাকায় বসবাস  করতেন। বর্তমানে এই সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উত্তরা ও দক্ষিণ খান এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। ফাদার ফ্রাঙ্কো পিমে বনানী সেমিনারীতে প্রভাষক ও আধ্যাত্মিক পরিচালক থাকাকালীন তাদের যত্ন নিয়েছেন। ফাদার ফ্রাঙ্কো উপাসনা কাজে ব্যবহারের জন্য উত্তরায় একটি সুন্দর দালানও ভাড়া নিয়েছিলেন। অনেক বৎসর সেই ভাড়া করা বাড়িতে এই এলাকায় বসবাসরত খ্রিষ্টানদের জন্যে রবিবাসরীয় উপাসনা ও অন্যান্য সংস্কারীয় কাজ পরিচালিত হয়েছে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে সালেসিয়ান পুরোহিত ফাদার ফ্রান্সিস এ্যালেনচারী, এসডিবি, মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও’র নির্দেশে এই এলাকার খ্রিষ্টানদের দায়িত্ব নেয়ার পর এলাকায় বাণী প্রচার কাজে নবজাগরণ সৃষ্টি হয়। ফাদার ফ্রান্সিস ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে চালাবন এবং ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে দলিয়াপাড়ায় মিশনের জন্য জমি ক্রয় করেন এবং কিছু নির্মাণ কাজ করেন। চালাবনকে বলা হয় ডনবস্কো কাথলিক মিশন এবং দলিয়াপাড়াকে বলা হয় কুইন অফ হলি রোজারী পম্পী চ্যাপেল। চালাবনে খ্রিষ্টভক্তের সংখ্যা ৬০ এবং দলিয়াপাড়ায় ৪০০। ২০২২খ্রিস্টাব্দে মাউসাইদের রাজাবাড়িসহ উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান নিয়ে চালাবন ডনবস্কো ধর্মপল্লী ঘোষণা করা হয়। DOLIPARA CHURCH CENTRE: (2019) RAJABARI SUB-CENTRE

Dhaka City

MOHAMMADPUR PARISH

        Name                   :     St. Christina’s Church (1990)         Address               :     Catholic Church, Mohammadpur                                             92 Asad Avenue, Dhaka-1207         Tel.                       :     (00 88 02) 8114134         Parish Priest       :     Fr. David S. Gomes         Mobile                  :     (+88) 017 1978 9737         E-mail                   :     frdgomes61@yahoo.com         Assistant              :    Fr. Kakon L. Corraya         Mobile                  :    01630237000         Email                    :     lukekakon@yahoo.com         Catholics              :     2,167 ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে সাধ্বী খ্রিষ্টিনা নামে অভিহিত এই ধর্মপল্লীটি প্রতিষ্ঠিত হয় পিমে ধর্মসংঘের ফাদারগণ কর্তৃক। সত্তর দশকের শেষভাগে মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় খ্রিষ্টবিশ্বাসের বীজ রোপিত হয়েছিল অনেকের অজান্তে ক্ষুদ্রাকারেই। চাকুরি, জমি ও বাসস্থানের প্রয়োজনে এ এলাকাগুলোতে কিছু কিছু খ্রিষ্টভক্ত বসবাস শুরু করেন। এভাবেই ক্ষুদ্র বীজটি পত্র-পল্লবে, ফুলে-ফলে বিকশিত হয়ে এখন একটি পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি সেন্ট খ্রিষ্টিনা নতুন গির্জাটি উদ্বোধন ও আশীর্বাদ করা হয় এবং ধর্মপল্লী হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর। এরপর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মপল্লীর কার্যক্রম শুরু হয়। সেন্ট খ্রিষ্টিনা ধর্মপল্লীরূপে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বৃহত্তর মোহাম্মদপুর এলাকা তেজগাঁও ধর্মপল্লীর অধীনে ছিল। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও, পিমে ফাদারদের অনুরোধ করেন এই এলাকায় একটি গির্জা নির্মাণ করার জন্য। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ও তারও পূর্বে কাপিতানিও কনভেন্টের চ্যাপেলে মোহাম্মদপুরের খ্রিষ্টভক্তদের জন্য রবিবাসরীয় খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করা হতো। তেজগাঁও ধর্মপল্লী থেকে ফাদারগণ এসে এখানে মিসা দিতেন।  সেন্ট খ্রিষ্টিনা গির্জা নির্মাণে ফাদার জান আন্তনী বাইও, পিমে’র অনেক অবদান রয়েছে। তিনিই এই গির্জার প্রথম পাল পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ধর্মপল্লীর আওতায় রয়েছে পিমে হাউজ, আরএনডিএম সিস্টার হাউজ, পবিত্র ক্রূস ভ্রাতৃ ধর্মসংঘের প্রভিন্সিয়াল হাউজ, মারীয়া বাম্বিনা ও কাপিতানিও কনভেন্ট, সেন্ট যোসেফস্ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেন্ট যোসেফ ইটারন্যাশনাল স্কুল, টি.এ.গাঙ্গুলী টিচারস্ ট্রেনিং কলেজ, গ্রীণ হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, খ্রিষ্টান ছাত্রাবাস ইত্যাদি। ফাদার আরতুরো বেড়ীবাঁধের কাছে মোহাম্মদপুরের নিচু এলাকায় একটি কাথলিক কবরস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে ধর্মপ্রদেশীয় ফাদারগণ ধর্মপল্লীটি পরিচালনা করছেন। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাদার তপন ডি’ রোজারিও পালপুরোহিত থাকাকালীন সুশিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে মাত্র ১৫ জন কচি-কাঁচাদের নিয়ে সেন্ট পলস্ মিশন স্কুলের যাত্রা শুরু করেন।

Dhaka City, History and Heritage

LUXMIBAZAR PARISH

        Name                   :     Holy Cross Church (1868)         Address               :     Catholic Church, Luxmibazar                                             82, Municipal Office St.                                             Luxmibazar, Dhaka-1100         Tel.                       :     (00 88 02) 7111281         Parish Priest      :     Fr. Donel Stephen Cruze, CSC         E-mail                  :     donel80@gmail.com         Mobile                 :     (00 88) 01833678282         Assistant            :     Fr. Hemlet Botlero, CSC         Mobile                 :     (+88) 01715036416         E-mail                  :     botlerof@gmail.com         Catholics            :     1,600 লক্ষ্মীবাজার পুরাতন ঢাকার একটি জনবহুল এলাকা। বুড়িগঙ্গা নদীর সন্নিকটে এই ঐতিহাসিক এলাকাটি এক সময় ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ছিল। বাংলাদেশ খ্রিষ্টমণ্ডলীর ইতিহাসে লক্ষ্মীবাজার এক প্রণিধানযোগ্য নাম। লক্ষীবাজারের বুকে অবস্থান করে সারা বাংলায় খ্রিষ্টের সাক্ষ্য  বহন করে পথ চলছে পবিত্র ক্রূসের গির্জা ও ধর্মপল্লী। ১৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার নারিন্দা এলাকায় আগস্টিনিয়ান ধর্মসংঘের ফাদারদের গির্জা ছিল। সেটার নাম ছিল ‘স্বর্গোন্নীতা রাণীর গির্জা’।ব্রিটিশদের আগমনে ঢাকায় খ্রিস্টানদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে, এখানে একটি নতুন গির্জার প্রয়োজন পড়ে। তদুপরি, নারিন্দা গির্জাটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ১৮১৫খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগীজ ফাদার এম. দা পিয়েদাদ আমপট্টিতে ‘ভক্তিরাণীর গির্জা’ নির্মাণ করেন। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে  লক্ষ্মীবাজারে একটি গির্জা নির্মিত হয়। গির্জাটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দের প্রলংকরী ঝড়ে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে পবিত্র ক্রূস ধর্মসংঘের ফাদারগণ ১৮৮৮/১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল সংলগ্ন স্থানে নতুন আরেকটি গির্জা নির্মাণ করেন। গির্জার নাম হয় ‘সাধু লুইসের ক্যাথিড্রাল’। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের প্রলংকরী ভূমিকম্পে গির্জাটিতে ফাটলের সৃষ্টি হয় ও তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই এই ভূমিকম্পে গির্জাটি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বর্তমান গির্জাঘরটি একই স্থানে স্থাপিত হয়। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে  লক্ষীবাজারে ধর্মপল্লী স্থাপিত হয়। এর নামকরণ করা হয় ‘হলি ক্রস চার্চ’। পরবর্তীতে দীর্ঘকাল পবিত্র ক্রূস গির্জাটি ক্যাথিড্রাল হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে পোপীয় আদেশ বলে রমনার গির্জাটিকে ক্যাথিড্রালে উন্নীত করা হলে লক্ষ্মীবাজারের ক্যাথিড্রালটি হলি ক্রস চার্চে-এ পরিণত হয়। লক্ষ্মীবাজার ধর্মপল্লীর অন্তর্ভুক্ত ওয়ারী কবরস্থান। বর্তমানে লক্ষ্মীবাজার ধর্মপল্লীর অধীনে রয়েছে পুরাতন ঢাকার পুরো অংশ (পূর্বেকার রেল লাইনের, ফুলবাড়িয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত), সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ইসলামপুর, হাজারীবাগ, নারিন্দা, ওয়ারী এসব এলাকা। লক্ষ্মীবাজার ধর্মপল্লীর বর্তমান লোকসংখ্যা ১৩২৯ জন। এই ধর্মপল্লীর আওতায় রয়েছে পবিত্র ক্রূস ফাদার-ব্রাদার, আরএনডিএম ও মিশনারীজ অব চ্যারিটি সিস্টারগণ।

Dhaka City

KAFRUL PARISH

        Name                   :     St. Lawrence Church (2006)         Address               :     Catholic Church, Kafrul                                             377, South Kafrul                                             Dhaka Cantonment, Dhaka-1206         Tel.                        :     (00 88 02) 8754973         Parish Priest       :     Fr. Proshanto T. Rebeiro         Mobile                  :     (+88) 01713007632         Email                    :     proshanto.09@gmail.com         Catholics             :     959 কাফরুলে খ্রিষ্টমণ্ডলীর গোড়াপত্তন খুব বেশি দিনের না। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের গোড়াতে প্রধানতঃ আঠারগ্রাম অঞ্চলের ২০টি কাথলিক পরিবার ঢাকার উত্তরে আগারগাঁয়ের নিকট পশ্চিম কাফরুলে জমি ক্রয় করেন। স্বাধীনতার পর কাফরুল এলাকা ফিরে পায় প্রাণচাঞ্চল্য। অনেক খ্রিষ্টান পরিবার কাফরুল ও ইব্রাহিমপুর এলাকায় জমি ক্রয় করে ও বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে আর্চবিশপ থিয়োটনিয়াস অমল গাঙ্গুলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ও উদ্যোগে কাফরুলে গির্জার  জন্য জমি ক্রয় করা হয়। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে কাফরুলের খ্রিষ্টভক্তগণ গির্জা ও স্কুল নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহে নেমে পড়েন। বনানী মেজর সেমিনারী থেকে ফাদারগণ প্রতি রোববার গ্রেগরীর বাড়িতে গিয়ে কাফরুলে বসবাসরত খ্রিষ্টভক্তদের জন্য খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করতেন। বনানী সেমিনারীয়ানগণ এ সময় সপ্তাহে একদিন কাফরুল গিয়ে ছেলে-মেয়েদের ধর্মশিক্ষা দান করতেন।  ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে স্কুল ভবন নির্মিত হয়। স্কুল ভবন নির্মিত হওয়ার পর অনেক দিন একই ভবনে স্কুল ও রবিবাসরীয় খ্রিস্টযাগ দুই-ই হতো। তখন থেকেই ১০ আগস্ট সাধু লরেন্সের পর্ব মহাআড়ম্বরের সাথে উদ্যাপিত হতো। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জুন আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও, ফাদার লিম্পেরিওর নকশা অনুযায়ী গির্জা ঘরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর সাধু লরেন্সের নামে সুন্দর গির্জাঘর মহাসমারোহে উদ্বোধন ও আশীর্বাদ করা হয়। বর্তমানে এই ধর্মপল্লীতে ১১০টি পরিবারে ৫৫০ জন কাথলিক আছেন।

Dhaka City

CUMILLA PARISH

        Name                    :     Our Lady of Fatima Catholic Church (1953)         Address               :     Catholic Church, Cumilla                                       :     P.O. Box-27, Cumilla-3500         Mobile                  :     (+88) 017 1476 2430         Parish Priest       :     Fr. Thomas Corraya         E-mail                  :     thomascorraya@gmail.com         Assistant            :     Fr. Philip Tushar Gomes         Mobile                 :     0181996671         Email                   :     philip.gomes44@yahoo.com         Catholics            :     250 কুমিল্লা ধর্মপল্লীটি স্থাপিত হয় ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে। ধর্মপল্লীটি ফাতিমা রাণীর নামে উৎসর্গীকৃত। ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে ফাদার বার্বে কুমিল্লা পরিদর্শনে এসেছিলেন। ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার পালক ফাদার ট্রেসী কুমিল্লা গিয়ে চারজন কাথলিকদের কাছ থেকে পুণ্যপিতা পোপের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর মাঝে মধ্যে ঢাকা, তুমিলিয়া ও তেজগাঁও থেকে ফাদারগণ গিয়ে কুমিল্লার অল্প সংখ্যক কাথলিকদের পরিচর্যা করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ রয়াল এয়ার ফোর্স কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। তাদের সুবিধার্থে একটি ছনের গির্জিকা এবং চ্যাপ্লেইনের জন্য ছনের ঘর ছিল। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুন স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে ফাদার ফ্রেডারিক বার্গম্যান, সিএসসি কুমিল্লা যান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী চলে গেলে গির্জিকা ও যাজক-ভবনটি আয়ত্বে আনবেন। কিন্তু একই বছরের ২০ জুলাই দ্বিতীয় সফরে গিয়ে দেখেন সশস্ত্র বাহিনী চলে গেছেন। দু’দিন পর তিনি ২৮০ টাকায় গির্জিকা, যাজক-ভবন, রান্না ঘর ও আরও তিনটি কুঁড়ে ঘর ক্রয় করেন। তখন আগরতলা থেকে যাজক মাঝে মধ্যে কুমিল্লা আসতেন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর ফাদার ফ্রান্সিস উইস্, সিএসসি, প্রথম আবাসিক যাজকরূপে কুমিল্লা যান। তিনি ছনের গির্জাকাটি প্রথমে মেরামত ও কয়েক মাস পর পুনঃনির্মাণ করেন। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে এক প্রচণ্ড ঝড়ে কুমিল্লার ছনের গির্জিকাটি ধ্বসে পড়ে। আর্চবিশপ গ্রেইনারের উৎসাহে ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর মেরিয়ানাইট অব হলি ক্রস সংঘের  সিস্টারগণ কুমিল্লায় একটি কনভেন্ট চালু করেন। ফাদার উইস এঙ্গলিকান গির্জাটি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে দু’একর জমিসহ ৮,০০০ টাকায় তা ক্রয় করেন। মেরামতের পর সে বছরের বড়দিন রাতে নতুন গির্জায় প্রথম কাথলিক উপাসনা হয়। এখান থেকে প্রতিমাসে একবার করে বা দু’বার করে ফাদার ৪৫ মাইল দূরে চাঁদপুর, ১৫ মাইল দূরে লাকসাম, ৩০ মাইল দূরে আখাউড়ার কাথলিকদের পরিচর্যা করতেন। এ ছাড়াও ৬০ মাইল দূরে সাহেবগঞ্জও ফাদার যেতেন। পরবর্তীতে সাহেবগঞ্জ চট্রগ্রাম ডায়োসিসকে দেওয়া হয় পালকীয় যত্ন দানের জন্য। ফাদার ডানিয়েল ক্যানার্ক, সিএসসি দীর্ঘদিন এই ধর্মপল্লীর দায়িত্বে ছিলেন। আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও ধর্মপল্লীর ভিতরেই ছেলেদের জন্য একটি স্কুল করেছেন। আর্চবিশপ পৌলিনুস কস্তা কুমিল্লা গির্জা ও ফাদার বাড়ির প্রচুর সংস্কার কাজ সাধন করেন। আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ ওএমআই যাজকভবন নির্মাণ করেন। অতি অল্পসংখ্যক স্থায়ী খ্রিস্টভক্ত রয়েছে কুমিল্লা ধর্মপল্লীতে। তবে চাকুরির কারণে বেশ কিছু আদিবাসি ও অভিবাসী খ্রিস্টবিশ্বাসী রয়েছে।

Dhaka City, History and Heritage

TEJGAON PARISH

        Name                   :     Holy Rosary Church (1677)         Address               :     Catholic Church, Tejgaon                                            P.O. Tejgaon, Dhaka-1215         Tel.                       :     (00 88 02) 8142093         Parish Priest      :     Fr. Subroto Boniface Gomes         Mobile                 :     (+88) 017 1503 3011         Email                   :     frsbgomes@gmail.com         Name                   :     Fr. Jholok Anthony Dessai         Mobile                 :     (+88) 01709105897         E-mail                  :     jholokanthony@gmail.com         Name                  :     Fr. Sony Michael Rozario         Mobile                 :     (+88) 01770807090         E-mail                  :     sony.rozario89@gmail.com         Catholics             :     10,380 তেজগাঁও গির্জা হলো পর্তুগীজ নির্মিত এ উপমহাদেশে এ যাবৎ প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্যের একটি। তেজগাঁও পুরাতন গির্জার চূড়ার উপরে স্থাপিত খোদাই করা শিলালিপি আরবিক ভাষায় ১৬৭৭ সংখ্যাটি দেখায়। তাই ১৬৭৭ সনটিই হয়তো তেজগাঁও জপমালা রাণী গির্জা প্রতিষ্ঠার বছর। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে গির্জা ঘরের জীর্ণ ছাদটি পুনসংস্কার করা হয়। এ সময় পাল পুরোহিত ফাদার ডমিনিক ডি’রোজারিও, সিএসসি। বিশপ টি, জে, ক্রাউলির নির্দেশে জরুরী ভিত্তিতে তা মেরামত করান। এজন্যই গির্জার প্রধান প্রবেশদ্বারের উপরে ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের উল্লেখ আছে। ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে বটমলী হোম অরফানেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ধর্মপল্লীতে প্রাণ চাঞ্চল্য ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কুনীপাড়া ও বেগুনবাড়ীর এলাকা শিল্প এলাকারূপে গড়ে উঠায় এই দুই অঞ্চলের বহু খ্রিষ্টান পরিবারকে সরে পড়তে হয়।  সত্তর থেকে আশির দশকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিশেষ করে আঠারোগ্রামের অনেকেই তেজগাঁও এলাকায় জমি ক্রয় করে বসতি স্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলি হলো মনিপুরি পাড়া, রাজাবাজার, মহাখালী এবং তেজকুনী পাড়া। ফলে তেজগাঁও ধর্মপল্লীর খ্রিষ্টভক্তদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। তিনশ বৎসরের পুরাতন গির্জা ঘরটিতে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। ভক্তদের সংখ্যা দিন দিন কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছিল। তাই এ সময় স্থানীয় পালপুরোহিতসহ সকলেই একটি নতুন গির্জা ঘর নির্মাণের প্রয়োজন অনুভব করেন। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ মার্চ আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও গির্জার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ২২ জানুয়ারি বহুদিনের প্রতীক্ষা ও অনেকের সমবেত প্রচেষ্টার স্মারক পবিত্র জপমালা রাণীর নতুন গির্জা ঘরের আশীর্বাদ ও শুভ উদ্বোধন করা হয়। নতুন গির্জা ঘরের ধারণ ক্ষমতা ১৫০০ জন।  ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে পুরাতন ও নতুন গির্জার বেশ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। তেজগাঁও ধর্মপল্লীর বর্তমান লোক সংখ্যা প্রায় ২০,০০০ জন। তাই দেখা যাচ্ছে খ্রিষ্টভক্তের সংখ্যার দিক দিয়ে তেজগাঁও সর্ববৃহৎ ধর্মপল্লী। পবিত্র জপমালা রাণী হলেন তেজগাঁও ধর্মপল্লীর প্রতিপালিকা। বনানী উপ–কেন্দ্র বনানীতে মেজর সেমিনারীর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে। সেইসময় থেকেই বনানী ও গুলশান এলাকায় বিদেশী হাউজে কর্মরত কাথলিকগণ সেমিনারীর গির্জায় রবিবারের উপাসনায় যোগ দেওয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে বিদেশী কাথলিকগণ যাদের মধ্যে বেশিরভাগই রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক ব্যক্তিগণ ও চাকুরীজীবীগণ সেমিনারীর গির্জায় রবিবারের উপাসনায় যোগ দিতেন। এছাড়াও গার্মেন্টস্ শিল্প, বিউটি পার্লার ও দেশি-বিদেশিদের হাউজে কর্মরত কাথলিকগণ বনানীতে রোববারের খ্রিষ্টযাগে যোগদান করেন। দিনের পর দিন এই সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং গির্জা ঘরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মে বর্তমান পবিত্র আত্মার গির্জাটি অন্যান্য বিশপগণসহ আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও শুভ উদ্বোধন ও আশীর্বাদ করেন। এই গির্জাটির কারুকার্য শিল্পমণ্ডিত ও চিত্রকর্ম অপূর্ব ও অর্থপূর্ণ।  বনানী সেমিনারীর ফাদারগণই বনানী উপ-কেন্দ্রের পালকীয় ও সংস্কারীয় কাজগুলি পরিচালনা করে থাকেন। ভক্তজনগণের বিভিন্ন সংস্কারগুলো গ্রহণে প্রস্তুত করে গড়ে তোলা ও প্রদান করার কাজটিও ফাদারগণ করেন।  দীক্ষাস্থান, প্রথম খ্রিষ্টপ্রসাদ ও হস্তার্পণের প্রস্তুতি, বিবাহ, রোগীলেপন, ধর্মশিক্ষা ক্লাস ইত্যাদি কাজগুলি বনানী সেমিনারীয়ান ও ফাদারগণ করে থাকেন।  MOHAKHALI CHURCH CENTER

Dhaka City

RAMNA CATHEDRAL

        Name                   :     St. Mary’s Cathedral (1956)         Address               :     Cathedral Church, Ramna                                             1, Kakrail Road                                             P.O. Box-3, Dhaka-1000         Tel.                        :     (00 88 02) 9358247         Parish Priest       :     Fr. Albert Thomas Rozario         Mobile                  :     (+88) 01715020250         E-mail                   :     falbert.rozario@gmail.com         Catholics              :     1,450 ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর পোপ ত্রয়োদশ লিও ঢাকাকে পূর্ববঙ্গের প্রথম ধর্মপ্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকায় কোন বিশপ ছিলেন না। এ সময় ঢাকার প্রশাসনিক দায়িত্ব বেনিডিক্টাইন সন্ন্যাস সংঘ এবং পরে পবিত্র ক্রুশ যাজক ধর্মসংঘের উপরই ন্যস্ত ছিল। অতঃপর ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ বিশপ আগস্টিন যোসেফ লুয়েজ, সিএসসি, ঢাকার প্রথম বিশপ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বর্তমান লক্ষ্মীবাজার হলি ক্রস গির্জাতেই ছিলো বিশপস্ হাউজ। বর্তমান আর্চবিশপস্ হাউজ, গির্জা ও সেমিনারীর জায়গাটি ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে বা ১৩০৮ সালের ১৩ চৈত্র ঢাকার দ্বিতীয় বিশপ পিটার যোসেফ অ্যার্ত, সিএসসি-এর সময় ক্রয় করা হয়। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার তৎকালীন ভিকার জেনারেল ফাদার তিমথী ক্রাউলী, সিএসসি-এর অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শিতায় ঐ সময়ের ঢাকার ৪র্থ বিশপ যোসেফ আরমা ল্যগ্রাঁ, সিএসসি’র সময় ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুন বর্তমান আর্চবিশপস্ হাউজের ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে রমনায় বিশপ ভবন নির্মিত হয় এবং এ ভবন সংলগ্ন গির্জিকাটির নাম ছিলো ‘সাধ্বী মণিকার চ্যাপেল’।  বিশপ তিমথি জন ক্রাউলী, সিএসসি-এর পর বিশপ লরেন্স গ্রেইনার, সিএসসি, ঢাকার দায়িত্ব নেন। তাঁর সময়েই রমনার বর্তমান গির্জা নির্মিত হয়। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রমনা ধর্মপল্লী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে বিশপ গ্রেইনার আর্চবিশপস্ ভবনের নিচতলায় ইন্টারমিডিয়েট সেমিনারী প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ সময় থেকে বিশপ গ্রেইনার রমনায় নতুন গির্জা নির্মাণের তাগিদ অুনভব করেন। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ রমনাকে ধর্মপল্লী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রমনা ধর্মপল্লীর প্রথম পালপুরোহিত ফাদার চার্লস আর, হাউজার, সিএসসি নতুন গির্জা নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে আর্চবিশপ গ্রেইনার গির্জার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে গির্জাটি আশীর্বাদিত হয়। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুলাই এই গির্জাকে ‘ধন্যা কুমারী মারীয়ার অমলোদ্ভবা ক্যাথিড্রাল’ এ উন্নীত করা হয়। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে আর্চবিশপ গাঙ্গুলী এই ক্যাথিড্রালের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করেন ‘সেন্ট মেরীজ ক্যাথিড্রাল’।

Scroll to Top