তেজগাঁও ধর্মপল্লীতে আঞ্চলিকভাবে পরিবারে মিলন, শান্তি ও ভালবাসার জুবিলী উৎসব
গত ১১ জুলাই, শুক্রবার, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তেজগাঁও ধর্মপল্লীতে ঢাকা মহানগরের ১০টি ধর্মপল্লী একত্রিতভাবে উৎসবময়তার মধ্য দিয়ে পালিত হলো পরিবারে মিলন, শান্তি ও ভালবাসার জুবিলী উৎসব। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল ঢাকা মহনগর আঞ্চলিক পালকীয় পরিষদ এবং ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ পরিবার কল্যাণ পরিষদ। এই জুবিলী শিক্ষা সন্মেলনের মূলভাব ছিল- পরিবর্তিত বিশ্বে আশাময় সমাজ বিনির্মাণে মানব পরিবার। এতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে ফাদার, ব্রাদার, সিস্টারগণ সহ ৭০০ খ্রিষ্টভক্ত অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তেজগাঁও গির্জার বাইরে মহামান্য কার্ডিনাল এক গুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে জুবিলী সন্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন। বেলুন উড়ানোর পরপরই নৃত্যের মেয়েরা নৃত্য পরিবেশন করে এবং নৃত্যের পর শোভাযাত্রা করে গির্জা ঘরে প্রবেশ করা হয়। অর্থপূর্ণ প্রার্থনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মূল পর্ব শুরু হয়। পরে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্থানীয় পাল পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত এস গমেজ, ঢাকা মহানগর পালকীয় পরিষদের চেয়ারম্যান ফাদার আলবাট রোজারিও, পরিবার কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান ফাদার তুষার গমেজ এবং পরিবারের পক্ষে হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান প্রতাপ আগষ্টিন গমেজ। তারা বলেন, আমাদের পরিবারগুলোকে আরো পবিত্র, স্বাস্থ্যপ্রদ, সুখী, গতিশীল ও আনন্দদায়ক রূপে গড়ে তুলতে হবে। শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরই মূল বিষয়ের উপর মূল্যবান বক্তব্য রাখেন ফাদার মিন্টু লরেন্স পালমা। তিনি বলেন, ঈশ্বর আদম-হবার মধ্য দিয়ে আমাদের পরিবাগুলোর জন্য একটা ঐশ পরিকল্পনা করেছেন। কিন্ত পরিবর্তিত বিশ্বে আমাদের পরিবারগুলো সেই পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে এসেছে। তিনি উপস্থিত সবাইকে আহ্বান করেন আমাদের পরিবারগুলো যেন সেই পরিকল্পনা মধ্যেই থাকে। এরপর চা বিরতি দিয়ে পবিত্র সাক্রামেন্তের আরাধনা ও ব্যক্তিগত পাপস্বীকার হয় এবং শেষে পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও, সিএসসি। খ্রিষ্টযাগের উপদেশে তিনি পরিবারে উপর সুন্দর উপদেশ বাণী রাখেন। তিনি বলেন, মহান জুবিলী বর্ষে পরিবারকে নিয়ে এই জুবিলী করা হচ্ছে। আজকে আপনারা যারা এখানে এসেছেন তারা অনেক অনেক ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করবেন। আপনারা আপনাদের পারিবারিক জীবন সুন্দর রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমাদের জন্য আশার বিষয় প্রভু যিশু আমাদের সমস্ত পরিবারের জন্য প্রার্থনা করেন। পরিবারে তোমরা যেন এক হতে পার। কারণ এতেই পরিবারের গৌরব ও কল্যাণ। শেষে দুপুরের আহারের মধ্য দিয়ে অর্ধ দিবসব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।







