Author name: Editor

News

ঢাকার আর্চবিশপ হাউজে রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বড়দিন পুনর্মিলনী

ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের মহামান্য আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ওএমআই এর উদ্যোগে ও আর্চবিশপ হাউজের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে অবস্থানরত কিছু দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে গত শনিবার (১৭/১/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে আর্চবিশপ হাউজের হল রুমে বড়দিন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইণ্ডিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ভাটিকান সিটি, আর্জেন্টিনা, কানাডার রাষ্ট্রদূত অথবা হাই কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও তাদের কারো কারো সাথে তাদের স্ত্রী/স্বামী উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকেই রাষ্ট্রদূতগণ আচবিশপস্ হাউজে আসা শুরু করলে বিশপ, ফাদার, ব্রাদার ও সিস্টারগণ তাদেরকে মূল গেইট থেকে বরণ করে নেন। সন্ধা ৬:৪০ মিনিট থেকে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান বিশপ সুব্রত বি গমেজের সঞ্চালনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রথমেই রমনা সেন্ট যোসেফ সেমিনারীর সেমিনারীয়ানগণ ইংরেজি ও বাংলায় মনোমুগ্ধকর কীর্তন পরিবেশন করে। তাদের সাথে উপস্থিত অতিথিদের কেউ কেউ তাল মেলান। এরপর প্রত্যেকজন রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পর্ব না থাকলেও ‍উপস্থিত অতিথিবৃন্দ পরস্পরের সাথে আলাপচারিতায় সময় ব্যয় করেন। উল্লেখ্য ঢাকা শহরে মণ্ডলী পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের প্রধানগণ এবং আর্চবিশপ হাউজে অবস্থানরত বিশপ, ফাদার ও সিস্টারগণ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি অতিথিদের সাথে বাংলাদেশে খ্রিস্টমণ্ডলী কিভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। বিশেষভাবে শিক্ষাসেবা, দীন-দরিদ্র ও অসুস্থদের সাথে একাত্ম হয়ে তাদের যত্ন দান করা এবং জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষাসেবায় নিবেদিত হয়ে ৭৫ কিংবা ৫০ বছরের জুবিলী পালন শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ মণ্ডলীর অঙ্গীকারের কথাই ব্যক্ত করে। তবে তিনি একই সাথে বর্তমানের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষভাবে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে হুমকি দান অন্যান্য সমস্যাসমূহ। তবে ভালো কাজে অনেকের সহায়তা লাভ করার কথাও তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দেন। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মহামান্য আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে, এই ব্যস্ত সময়ে সময় বের করে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন বলে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বিশেষ ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে। কেননা তিনি সবেমাত্র রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং প্রথমবারের মতো আর্চবিশপ ভবনে এসেছেন। আর্চবিশপের বক্তব্যের পরপরই সকলে রাতের খাবার গ্রহণ করেন ও আলোচনা চালিয়ে যান। আর্চবিশপ হাউজে সংরক্ষিত অতিথি উপস্থিতির নির্দিষ্ট খাতায় অতিথিগণ তাদের অনুভূতি ও মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে রাষ্ট্রদূতগণ ও আমন্ত্রিত অতিথিগণ সময় কাটান। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট খ্রিস্টেনসান বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবেই আর্চবিশপ ভবনেই তাঁর প্রথম সফর। খাওয়া-দাওয়ার পর ফটোসেশন পর্ব চলে এবং পারস্পরিক ধন্যবাদের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সবমিলিয়ে মোট ৫০জন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

News

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকার মহামান্য আর্চবিশপের শোক প্রকাশ

তারিখঃ ০১.০১.২০২৬ খ্রিস্টাব্দ প্রেস বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা খ্রিস্টান সমাজ গভীর শোক ও বেদনা প্রকাশ করছি। তাঁর মৃত্যুতে জাতি এক অভিজ্ঞ দূরদর্শি রাষ্ট্রনেতাকে হারাল। এই বেদনাময় ও কষ্টদায়ক সময়ে আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার নিকট তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী আমরা প্রার্থনা করি—প্রভু যেন তাঁকে তাঁর অনন্ত বিশ্রামে স্থান দেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীদের হৃদয়ে শান্তি ও সান্ত্বনা দান করেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেত্রী হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মত ও পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও আপোসহীন নেত্রী। দেশ ও দেশের মাটির প্রতি ভালোবাসা, অন্যকে সম্মান দান এবং দরিদ্রদের প্রতি বিশেষ দরদবোধ তাঁকে অনন্য করে রাখবে। মাননীয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশবাসী শোকে স্তব্ধ। এই শোকের সময়ে আমরা খ্রিস্টান সমাজও দেশবাসীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং প্রার্থনায় বলছি— ‘প্রভু, আমাদের দেশকে শক্তি ও শান্তি দাও, শোককে আশায় রূপান্তর করো।’ ঈশ্বর আমাদের সকলকে এই গভীর শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ ক্রুজ, ওএমআইআর্চবিশপ, ঢাকা আর্চডায়োসিসসভাপতি, বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী

Events, News

বড়দিন উপলক্ষে মহামান্য আর্চবিশপ মহোদয়ের বাণী

বিশপদের ষোড়শ সিনডের চূড়ান্ত দলিল প্রকাশিত হয়েছে। এই সিনডাল যাত্রাতে (২০২১-২০২৪) মণ্ডলী নিজে পবিত্র আত্মার আলোকে আলোকিত হয়ে আহূত হয়েছে তাদের যাপিত খ্রিস্টীয় জীবন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; যাতে মাণ্ডলিক মিলন ও একতাকে আরও গভীর করা যায় এবং অংশগ্রহণকে ব্যাপক ও শক্তিশালী করে যিশু প্রদত্ত মিশন কাজকে আরও শক্তিশালী করা যায়। এই দলিল গুরুত্ব আরোপ করে যে, মণ্ডলী হলো বিশ্বাসী জনগণ, একটি মিলন-বন্ধন যা গঠিত হয় সত্যিকারের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ প্রেমের মধ্য দিয়ে, এটা একটা আমলাতান্ত্রিক সংগঠন নয়। আমাদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বাস ও ভালবাসার একটা বন্ধন। মণ্ডলী হলো ঈশ্বরের একটি পরিবার, অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ গৃহ, যেখানে সবার স্থান রয়েছে। আমাদের এই মিলন বন্ধন শক্তিশালী হয় খ্রিস্টযাগ ও খ্রিস্টপ্রসাদ গ্রহণ করে এবং প্রভুর বাণী শ্রবণ ও পালনের মধ্য দিয়ে। মঙ্গলসমাচারে বর্ণিত সাধু পিতর ও তাঁর সঙ্গীদের তিবেরীয় সাগরে মাছ ধরার ঘটনাকে পটভূমি হিসাবে ব্যবহার করে  এই দলিল আমাদেরকে একটা ইঙ্গিত প্রদান করে যে, জাল একে অপরের সাথে একটা বন্ধনে আবদ্ধ। যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমাদের মিশন কাজকে সার্থক করার জন্য বন্ধন, একাত্মতা, সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবাণী ও খ্রিস্টাদর্শ প্রচারের জন্য প্রয়োজন একাত্মতা, বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। এই সিনড্ আমাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যেন আমরা পবিত্র আত্মার প্রতি উন্মুক্ত হই, তাঁর কথা শুনি এবং নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক নবায়নের মধ্য দিয়ে মন পরিবর্তন করি। আমাদের যাত্রা হোক “আমি” থেকে “আমরা” হওয়াতে। এই মনপরিবর্তনের পদ্ধতিতে রয়েছে সুশাসন, দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতা। সবার কল্যাণের জন্য মাণ্ডলিক অবধারণ (সিদ্ধান্ত) প্রক্রিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত কতকগুলো নিয়ম-নীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে: অন্যের কথা শুনা, প্রার্থনা, সংলাপ, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের উপর। পুনরুত্থিত খ্রিস্ট শিষ্যদের ফুঁ দিয়ে যখন পবিত্র আত্মাকে প্রদান করেছিলেন তখনই নতুন সৃষ্টির সূচনা হয়েছে – মিশনারী মণ্ডলীর জন্ম হয়েছে। সিনডাল শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য এসো আমরা সক্রিয়ভাবে মাণ্ডলিক জীবনে ও মিশন কাজে অংশগ্রহণ করি, অন্যকে অংশগ্রহণ করতে সুযোগ করে দেই, বিশেষ করে নারী এবং যুবাদের – মিলন-একাত্মতা, অন্যের যত্ন, ভ্রাতৃত্ব ও দরদ-ভালবাসা  চর্চা করি বিশেষ করে দরিদ্রদের প্রতি। আমরা এ বছর যিশু খ্রিস্টের ২০২৫ বছরের জন্ম-জুবিলীবর্ষ পালন করেছি। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি পোপ ফ্রান্সিসের ঐতিহাসিক অবদানের কথা। তিনি সমগ্র মণ্ডলীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে আমরা এ জগতে আশার তীর্থ যাত্রী হয়ে উঠি।  আমরা সবাই এ জগতে তীর্থযাত্রী। আশা আমাদের পথ দেখায়, এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায়, আশা মানুষকে সঞ্জিবিত রেখে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে। আশা আমাদের জীবনকে রূপান্তরিত ও সক্ষম করে, যাতে আমরা হতাশা নিরাশার অন্ধকারের মধ্যে ঈশ্বরের ভালবাসার দ্যুতি ছড়াতে পারি। আসুন আমরা হয়ে উঠি আশার জীবন্ত সাক্ষ্য ও বাতিঘর। প্রভু যিশুর জন্মতিথি আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বয়ে আনুক গভীর আনন্দ, মিলন, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি। সবাইকে বড়দিনের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং নববর্ষ উপলক্ষে রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা। আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ ওএমআই আর্চবিশপ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ সভাপতি, বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী

Scroll to Top