বিশপদের ষোড়শ সিনডের চূড়ান্ত দলিল প্রকাশিত হয়েছে। এই সিনডাল যাত্রাতে (২০২১-২০২৪) মণ্ডলী নিজে পবিত্র আত্মার আলোকে আলোকিত হয়ে আহূত হয়েছে তাদের যাপিত খ্রিস্টীয় জীবন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; যাতে মাণ্ডলিক মিলন ও একতাকে আরও গভীর করা যায় এবং অংশগ্রহণকে ব্যাপক ও শক্তিশালী করে যিশু প্রদত্ত মিশন কাজকে আরও শক্তিশালী করা যায়। এই দলিল গুরুত্ব আরোপ করে যে, মণ্ডলী হলো বিশ্বাসী জনগণ, একটি মিলন-বন্ধন যা গঠিত হয় সত্যিকারের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ প্রেমের মধ্য দিয়ে, এটা একটা আমলাতান্ত্রিক সংগঠন নয়। আমাদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বাস ও ভালবাসার একটা বন্ধন। মণ্ডলী হলো ঈশ্বরের একটি পরিবার, অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ গৃহ, যেখানে সবার স্থান রয়েছে। আমাদের এই মিলন বন্ধন শক্তিশালী হয় খ্রিস্টযাগ ও খ্রিস্টপ্রসাদ গ্রহণ করে এবং প্রভুর বাণী শ্রবণ ও পালনের মধ্য দিয়ে।

মঙ্গলসমাচারে বর্ণিত সাধু পিতর ও তাঁর সঙ্গীদের তিবেরীয় সাগরে মাছ ধরার ঘটনাকে পটভূমি হিসাবে ব্যবহার করে এই দলিল আমাদেরকে একটা ইঙ্গিত প্রদান করে যে, জাল একে অপরের সাথে একটা বন্ধনে আবদ্ধ। যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমাদের মিশন কাজকে সার্থক করার জন্য বন্ধন, একাত্মতা, সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবাণী ও খ্রিস্টাদর্শ প্রচারের জন্য প্রয়োজন একাত্মতা, বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। এই সিনড্ আমাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যেন আমরা পবিত্র আত্মার প্রতি উন্মুক্ত হই, তাঁর কথা শুনি এবং নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক নবায়নের মধ্য দিয়ে মন পরিবর্তন করি। আমাদের যাত্রা হোক “আমি” থেকে “আমরা” হওয়াতে। এই মনপরিবর্তনের পদ্ধতিতে রয়েছে সুশাসন, দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতা।
সবার কল্যাণের জন্য মাণ্ডলিক অবধারণ (সিদ্ধান্ত) প্রক্রিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত কতকগুলো নিয়ম-নীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে: অন্যের কথা শুনা, প্রার্থনা, সংলাপ, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের উপর। পুনরুত্থিত খ্রিস্ট শিষ্যদের ফুঁ দিয়ে যখন পবিত্র আত্মাকে প্রদান করেছিলেন তখনই নতুন সৃষ্টির সূচনা হয়েছে – মিশনারী মণ্ডলীর জন্ম হয়েছে। সিনডাল শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য এসো আমরা সক্রিয়ভাবে মাণ্ডলিক জীবনে ও মিশন কাজে অংশগ্রহণ করি, অন্যকে অংশগ্রহণ করতে সুযোগ করে দেই, বিশেষ করে নারী এবং যুবাদের – মিলন-একাত্মতা, অন্যের যত্ন, ভ্রাতৃত্ব ও দরদ-ভালবাসা চর্চা করি বিশেষ করে দরিদ্রদের প্রতি।
আমরা এ বছর যিশু খ্রিস্টের ২০২৫ বছরের জন্ম-জুবিলীবর্ষ পালন করেছি। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি পোপ ফ্রান্সিসের ঐতিহাসিক অবদানের কথা। তিনি সমগ্র মণ্ডলীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে আমরা এ জগতে আশার তীর্থ যাত্রী হয়ে উঠি। আমরা সবাই এ জগতে তীর্থযাত্রী। আশা আমাদের পথ দেখায়, এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায়, আশা মানুষকে সঞ্জিবিত রেখে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে। আশা আমাদের জীবনকে রূপান্তরিত ও সক্ষম করে, যাতে আমরা হতাশা নিরাশার অন্ধকারের মধ্যে ঈশ্বরের ভালবাসার দ্যুতি ছড়াতে পারি।
আসুন আমরা হয়ে উঠি আশার জীবন্ত সাক্ষ্য ও বাতিঘর। প্রভু যিশুর জন্মতিথি আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বয়ে আনুক গভীর আনন্দ, মিলন, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি।
সবাইকে বড়দিনের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং নববর্ষ উপলক্ষে রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।
আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ ওএমআই
আর্চবিশপ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ
সভাপতি, বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী
