Dharenda Parish

ধরেণ্ডা ধর্মপল্লী

ধরেণ্ডা ধর্মপল্লীর আওতাভুক্ত ৪টি গ্রাম- ধরেণ্ডা, রাজাসন, কমলাপুর ও দেওগাঁও। এককালে কিন্তু এদের বেশিরভাগেরই আদি নিবাস ছিলো কালিগঞ্জের দড়িপাড়া, চড়াখোলা এলাকায়। জীবিকার জন্যই মূলত: তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়  স্থানান্তর। নতুন এই জনপদ ক্রমে ক্রমে বিকশিত হয়েছে। মিশনারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, যত্ন, ভালোবাসায় তিলে তিলে গড়ে উঠে ধরেণ্ডা ধর্মপল্লী আজ এই পর্যায়ে এসেছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই তুমিলিয়া, চড়াখোলা, দড়িপাড়া ও ভাদার্তি গ্রামের নাগর গায়েন, আলী গায়েন, মেথু পদ্ধতি, ফটিক দফাদার, আগষ্টিন রোজারিও, দঙ্গু ক্রুশ, তাড়– আইলসা ও তার সন্তানেরা ধরেণ্ডা, কমলাপুর, রাজাসন ও দেওগাঁও গ্রামে এসে প্রথম বসতি গড়ে তুলেছিলেন। চড়াখোলা পালমার বাড়ির লোকেরা কোন্দলবাগ এলাকায় বসতি স্থাপন করলেও বাঘের উৎপাতে টিকতে না পেরে চড়াখোলা ফিরে যান। অন্যরা থেকে যান।

ধরেণ্ডায় খ্রিষ্টভক্তদের যতœ নেয়া শুরু হয় ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। ঢাকা থেকে যাজকগণ অনিয়মিতভাবে খ্রিষ্টভক্তদের দেখাশুনা করতেন। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে ধরেণ্ডা ধর্মপল্লীর প্রথম গির্জা নির্মিত হয়। দশ বর্গফুটের সেই গির্জাঘরটি ছিলো ছনের তৈরি এবং তা ছিলো কমলাপুর গ্রামে। ধরেণ্ডা ধর্মপল্লীর প্রাইমারী বিদ্যালয়ের বর্তমান দালানটি নির্মিত হওয়ার আগে এখানে বড় একটি টিনের ঘর ছিলো। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের পরে সেটি নির্মিত হয়। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের এক প্রচণ্ড ঝড়ে সেই টিনের স্কুলঘরটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর বর্তমান দালানটি ফাদার লিও সালিভান নির্মাণ করেন। ধর্মপল্লী হওয়ার আগেই ধরেণ্ডয় প্রথম আবাসিক যাজক ছিলেন গারো অঞ্চলের উদ্যোগী বাণী প্রচারক ফাদার এডল্ফ ফ্রাঁসে, সিএসসি।

বর্তমান গির্জা ঘরের আগে পাকা দেয়াল এবং টিনের ছাদওয়ালা একটি গির্জাঘর ছিল। মনসিনিয়র আব্রাহাম পারামপিল্লীর সময়ে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ধরেণ্ডা ধর্মপল্লীতে এসএমআরএ সিস্টারদের থাকার জন্য একটি বাসভবন নির্মাণ করা হয়। ফাদার সালিভানের প্রচেষ্টায়ই ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ধরেণ্ডা সেন্ট যোসেফ হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে পুরাতন গির্জাঘরটি ভেঙ্গে ফাদার পরিমল পেরেরা, সিএসসি, একটি নতুন গির্জা ঘর এবং ফাদারদের থাকার জন্য নতুন ভবনটি নির্মাণ করেন। ধরেন্ডা ধর্মপল্লীর একটি কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে আজ শহরভিত্তিক সমাজে রূপ  নিয়েছে।  

Scroll to Top