ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানে সাধু আন্তনীর পর্ব উদযাপন

খ্রিস্টমণ্ডলীতে সাধু আন্তনী খুবই পরিচিত একটি নাম| তিনি প্রতিটি খ্রিস্টভক্ত সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার, যিনি তার গভীর বিশ্বাস, জ্ঞান ও অসাধারণ প্রচার দক্ষতার জন্য সুপরিচিত| সবার বিশ্বাস, সাধু আন্তনী হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পেতে সাহায্য করেন| ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশে সাধু আন্তনীর প্রতি ভক্তিটা একটু বেশিই পরীলক্ষিত হয়| অনেক ধর্মপল্লীতেই এই সাধুর পর্ব ঘটা করে উদযাপন করা হয়| তাঁর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তাঁর পর্ব পালিত হয়েছে ১৩ জুন বা তার কাছাকাছি সুবিধাজনক সময়ে| আর তাঁর এই পর্ব পালন নিয়ে প্রস্তুত করা হলো বিশেষ প্রতিবেদন|

নাগরী ধর্মপল্লীর পানজোড়ায় অনুষ্ঠিত হলো মহান সাধু আন্তনীর পর্ব উৎসব

গত ১৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, নাগরী ধর্মপল্লীর পানজোড়া গ্রামে সাধু আন্তনীর তীর্থভূমিতে অনুষ্ঠিত হলো মহান সাধু আন্তনীর পর্ব উৎসব| তিনদিনের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির পর এই পর্ব দিবস উদযাপন করা হয়| এই পর্ব উপলক্ষে খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার রিপন রোজারিও, এসজে| তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরী ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার খোকন ভিনসেন্ট গমেজ|এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত ফাদার, ব্রাদার, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সিস্টারগণ সহ প্রায় ৮ হাজার খ্রিস্টভক্ত এই পর্ব উৎসবে অংশগ্রহণ করেন|

খ্রিস্টযাগের উপদেশ বাণীতে ফাদার সাধু আন্তনীর জীবন-যাপন, তার ত্যাগ, দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসার বিষয় তুলে ধরেন|

তিনি আরও বলেন, সাধু আন্তনীর জীবনের মত আমরাও যেন ঈশ্বরের বাণী সকলের সামনে তুলে ধরতে পারি, আমরাও যেন তার জীবনের মত আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে পারি| সাধু আন্তনীর এই পর্ব উদযাপনের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টভক্তরা মন পরিবর্তন ও সাধু আন্তনীর জীবন-যাপনকে ধ্যান করার মধ্য দিয়ে তাদের ব্যক্তি জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলতে পারবে|

মহান সাধু আন্তনীর পর্ববক্সনগর

গত ১৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে গোল্লা ধর্মপল্লীর অন্তর্গত বক্সনগর উপধর্মপল্লীর প্রতিপালক সাধু আন্তনীর পর্ব মহাসমারোহে পালিত হয়| নয় দিনের নভেনার মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির পর বক্সনগর ও গোল্লা ধর্মপল্লীসহ অন্যান্য ধর্মপল্লী থেকে আগত বিভিন্ন খ্রিস্টভক্তরা এই পর্বীয় খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ করে| খ্রিস্টযাগ শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায় ও সাড়ে ৯টায়| খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ সাথে ছিলেন মন্সিনিয়র ফাদার গাব্রিয়েল কোড়াইয়া’সহ আরো অনেকজন ফাদার| গির্জাঘরের বাইরে থেকে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে গির্জাঘরে প্রবেশ করা হয়| এরপর সাধু আন্তনীর প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান ও ধুপারতি দেওয়া হয়|

খ্রিস্টযাগের উপদেশবাণী সহভাগিতায় বিশপ বলেন, প্রতিটি ধর্মপল্লী, গির্জা, প্রার্থনাগৃহের প্রতিপালক বা প্রতিপালিকার পার্বণ খুবই আনন্দের একটা উৎসব| ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার সুন্দর একটা উপলক্ষ| আজকের দিনটি খুবই আনন্দের একটি দিন কারণ আজ আমরা আমাদের এই গির্জার প্রতিপালক আমাদের আশ্রয়স্থল সবার প্রিয় সাধু আন্তনীর পর্ব পালন করছি| সাধু আন্তনী শুধু কাথলিকদের না; তিনি সর্বজনীন সাধু| এছাড়া তিনি বলেন, আমরা দোকান থেকে বিভিন্ন কিছু কেনাকাটা করি| কারণ তা আমাদের ঘরের জন্য প্রয়োজন| ঠিক তেমনি প্রতিটি জিনিসের মত আমাদের ঘরে একটি করে সাধু-সাধ্বীদের জীবনী রাখা দরকার| কারণ আমরা তাদের জীবনী পাঠের মধ্য দিয়ে প্রেরণা পাই|

খ্রিস্টযাগের পর বিশপ বিস্কুট আশীর্বাদ করেন এবং তা খ্রিস্টভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়| এছাড়া যে সকল খ্রিস্টভক্তগণরা দূরদূরান্ত থেকে এসেছে তাদের জন্য বিভিন্ন বাড়িতে দুপুরের আহারের ব্যবস্থা করা হয়|

তেজগাঁও ধর্মপল্লীতে মহান সাধু আন্তনীর পর্ব উদযাপন

গত ১৩ জুন তেজগাঁও ধর্মপল্লীতে মহান সাধু আন্তনীর পর্ব উদ&যাপন করা হয়| পর্বীয় খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন পাল পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত গমেজ| সেই সাথে ছিলেন সহকারি পাল পুরোহিত ফাদার রিগ্যান কস্তা ও ফাদার সাগর কোড়াইয়া|

খ্রিস্টযাগের উপদেশবাণীতে ফাদার সাধু আন্তনীর জীবন নিয়ে সহভাগিতা করেন| এছাড়া তিনি বলেন, ঈশ্বরের বাণী আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে যদি আমরা বিশ্বাস নিয়ে সে বাণী শুনি এবং তা মনে ধারণ করে সেইমত জীবনযাপন করি| আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই হারিয়ে যাওয়া জিনিস এই সাধুর মাধ্যমে পেতে পারি যদি আমরা সত্যিই সেই বিশ্বাস নিয়ে আমরা খুঁজি| খ্রিস্টযাগের পর সকল খ্রিস্টভক্তরা সাধু আন্তনীর প্রতিকৃতি থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করে|

সাভার ধর্মপল্লীর কমলাপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো মহান সাধু আন্তনীর পর্ব উৎসব

গত ১২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সাভার কমলাপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো প্রার্থনাগৃহের প্রতিপালক সাধু আন্তনীর পর্ব উৎসব| সাধু আন্তনীর পর্ব উৎসবের মহাখ্রিস্টযাগে পৌরহিত্য করেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ ক্রুজ ওএমআই| এই দিনে বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে শত শত খ্রিস্টভক্তের ভক্তিপূর্ণ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পর্ব উৎসবটি পালিত হয়| পর্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আন্না মিনজ|

আর্চবিশপ তার উপদেশে সাধু আন্তনীর জীবনী ও শিক্ষা ভক্তজনগণের মধ্যে তুলে ধরেন| তিনি বলেন, সাধু আন্তনী ছিলেন একজন উত্তম ধর্ম প্রচারক| তার জীবনী আমাদের অন্তরে ধারণ করতে হবে|

তিনি আরও বলেন, খ্রিস্ট বিশ্বাস ও খ্রিস্টপ্রেম ছিল সাধু আন্তনীর জীবনের বড় একটা শক্তি| যিশুর সাথে তার একটা গভীর সম্পর্ক ছিল; তাই আমাদেরও যিশুর

Scroll to Top